ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রী থেকে গর্বিত ফুচকাওয়ালা হয়ে ওঠার গল্প

0
2137
ফুচকাওয়ালা (Fuchkawala)
ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রী থেকে গর্বিত ফুচকাওয়ালা হয়ে ওঠার গল্প

আগের বছরের লকডাউন বদলে দিয়েছে অনেকের জীবনকে। হঠাৎ করে লোকডাউন এসে যাওয়ায় অর্ধেক মাইনে পেয়ে কর্মহীন হয়ে পড়েন অসংখ্য মানুষ যার ফলে বদলে গেছে তাদের জীবনের দিশা। সেরকমই কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে ফুচকার দোকান দিতেও বাধ্য হয় খড়দহের দেবজ্যোতি সাহা। খড়দহে তার দোকান ফুচকাওয়ালা(Fuchkawala)র বেশ রমরমা বাজার।

ফুচকাওয়ালা (Fuchkawala) :

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ‘ফুচকাওয়ালা’। ফুচকার স্বাদ তো আছেই সেই সঙ্গে তার জীবনের গল্প ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছে সাধারণ মানুষকে। সেকারণেও ভাইরাল দেবজ্যোতি ও তার বোন। দেবজ্যোতি ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে একটি সংস্থায় কর্মরত এবং তার বোন এখনো ইঞ্জিনিয়ারিং করছে। আগামী দিনে বড় কোম্পানিতে কাজ করার স্বপ্ন দেখে সে। তবে লকডাউনে দেবজ্যোতির মাইনে অনেকটাই কমে যাওয়ায় চরম আর্থিক সমস্যার মুখে পড়তে হয় তাদের পরিবারকে। স্টেশনের কাছেই একটি স্টেশনারি দোকান ছিল তাদের সম্বল যা ১০ বছর ধরেই বন্ধ পড়ে ছিল।

ফুচকাওয়ালা(Fuchkawala) হয়ে ওঠার গল্প :

লকডাউনে বাড়িতে নানারকমের ফুচকা বানিয়ে খেতে খেতে হঠাৎই দুই ভাই বোনের মাথায় বুদ্ধি আসে নতুন কিছু করার। যেমন ভাবা তেমন কাজ। সাথে সাথে প্ল্যানিং শুরু করে মাঠে নেমে পড়া। তবে ইঞ্জিনিয়ারিং করতে করতে ফুচকার ব্যবসায়ে নামটা অত সহজ নয়। পাড়া প্রতিবেশী থেকে শুরু করে আত্মীয় স্বজন সকলেই নানারকম কটূক্তি করেছে তবে সেসবকে পাত্তা না দিয়ে এগিয়ে চলেছে ‘ফুচকাওয়ালা’(Fuchkawala)।

চিকেন ফুচকা, চিংড়ি ফুচকা থেকে শুরু করে আইসক্রিম ফুচকার মতো নতুন নতুন চমকের পাশাপাশি রয়েছে সুন্দর মনোরম পরিবেশ। স্যান্ডুইচও ট্রাই করতে পারবেন চাইলে। বিয়ে থেকে শুরু করে যেকোন ধরনের অনুষ্ঠান বাড়িতে অর্ডার নিয়ে থাকে ‘ফুচকাওয়ালা’। আগামী দিনে সফল ইঞ্জিনিয়ার হয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও ‘ফুচকাওয়ালা’(Fuchkawala) কে ব্র্যান্ড বানানোই লক্ষ্য দেবজ্যোতি এবং তার বোনের।

ফেসবুক পেজে লিখেছেন :

“হ্যাঁ আমি এক ফুচকাওয়ালা !!!এবং এই ফুচকা বিক্রি করেই নিজের স্বপ্নের দিকে এগিয়ে চলেছি 😊 ❤️
অনেক কষ্ট করে এই জায়গায় আজ পৌঁছেছি । আজ আমি বলতে পারি আমি এক গর্বিত ফুচকাওয়ালা তাই ভাবলাম আপনাদেরকে আমাদের গল্পটা বলি একটু বড় সময় নিয়ে পড়বেন.. 😊 সময়টা তখন 2020 মে মাস দাদার প্রাইভেট জবের স্যালারি টা হাফ হলো কারণ করোনা তখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে .. আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারে টান দেখা দিল!!

আমি তখন ডিপ্লোমা করছি প্রাইভেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে স্বপ্ন ছিল একদিন B.tech করে বড় কোন কোম্পানিতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হব কিন্তু হঠাৎ করে কেমন যেন কালো মেঘ নেমে এলো আমাদের পরিবারে !! সম্বল বলতে বাবার একটি মুদিখানার দোকান যেটি বিগত 10 বছর যাবত বন্ধ, দু-তিন মাস কোনরকম চালানোর পর ভাবতে লেগেছিলাম হয়তো দোকান টা বিক্রি করে দিতে হবে কিন্তু আমার ও আমার দাদার স্বপ্ন তাড়া করছিল নতুন কিছু শুরু করার তখন থেকেই আমাদের ভাবনা দোকানটা নিয়ে কিছু করব অনেক কিছু ভাবার পর শেষে ঠিক করলাম আমরা ফুচকা ওয়ালা হব।

শুরুটা খুবই কঠিন ছিল অনেকের কাছে অনেক কটুক্তি শুনতে হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া ছেলে মেয়ে ফুচকার দোকান অনেকেই ঠাট্টা করেছে। আজ প্রায় আট মাস হতে চলল আমরা যথেষ্ট জায়গা করে নিয়েছি মানুষের মনে। ফুচকাwala নাম এখন হয়তো অনেকেই জানেন মানুষের ভালোবাসায় আমরা আজ অনেক পথে এগিয়েছি এবং আমি আমার স্বপ্নের প্রতি আরও একধাপ এগোতে পেরেছি এখন আমি B.tech করি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে স্বপ্ন এখনো বড় ইঞ্জিনিয়ার হব কিন্তু ফুচকা কে ভুলবো না আজ আমরা যেটুকু তার পিছনে এই ফুচকার অবদান সবচেয়ে বেশি।

তাই আরো একটি স্বপ্ন যুক্ত হয়েছে ‘আমাদের এই ফুচকাwala কে একদিন ব্র্যান্ড করে তুলতে চাই’ কিন্তু তার জন্য আপনাদের দরকার। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আবার কিছুটা থমকে দিয়েছে গাড়িটা ,কিন্তু এইবার আর মনে ভয় নেই জানি আপনাদের পাশে পাব জানি আপনাদের সাথে পাব। পারলে আমাদের কে সাপোর্ট করার জন্য পোস্টটি একটু শেয়ার করে দেবেন যাতে আমরা আরও মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারি এবং আবার এই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠে নতুন ভাবে সেজে উঠতে পারি🙏 Contact- 9062555953 📞”

কেমন লাগলো অবশ্যই জানান

SHARE